পোস্টগুলি

শুয়োরের বাচ্চারা শান্তিতে থাকে

আমার আশেপাশে বেশিরভাগই শুয়োরের বাচ্চা থাকে। দুই-তিনজন বাদে সবাই স্বার্থপর। শুধুমাত্র দরকার হলেই আমার খোঁজখবর নেয়। নাইলে লাপাত্তা।

ধার লাগবে, আমাকে ফোন দেয়। কাউরে ফাপর দিতে হবে - কাপুরে বল। কোন জিনিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না - কাপুরে জিজ্ঞেস কর। অথচ গত দুই মাস ধরে আমি যে দৃশ্যপটে নাই, বন্ধু-বান্ধব, কেউ একবার ফোন করে জিজ্ঞেস করল না। ডেঙ্গুর সাথে যুদ্ধ করে জিতে আসলাম। সেই সময় কেউ খবর নিলো না।

এই কারনে গত একমাস ধরে ফোন বন্ধ করে ডুব দিয়েছিলাম। দেখতে চাইছিলাম কে কে আমার খবর নিতে আসে। প্রথমজন আসল এলাকার বড় ভাই হাসিব। তিনি আসলেন আমি ডুব দেয়ার সাত দিন পরে। আমি বললাম, ভাই আপনি এই যে সাতদিন পরে আমার খবর নিতে আসলেন, এর মাঝখানে আমি মরে পড়ে থাকলে তো আমার লাশও পঁচে যেত।

হাসিব ভাই অবশ্য এত আবেগের ধারে কাছে গেলেন না। বললেন, ফালতু প্যাঁচাল বাদ দে। তোর এইখানে কয়দিন থাকব। একটা রুম ছেড়ে দে।

কি হয়েছে জানতে চাইলাম না। খালি বললাম, আমি নিজেই ব্যাচেলর থাকি। আমার দুই রুমের ফ্ল্যাটে একটা আমার স্টাডিরুম আর একটা আমার বেডরুম। আপনি কই থাকবেন?

- আমি তোর বেডরুমেই থাকব। তুই লাইব্রেরী রুমে মটকা মেরে পড়ে থাক। আর সারাদিন তো কি সব বালছাল লিখিস। তুই ঘুমাস কখন?

এক প্রকার জোর করে তিনি আমার রুম দখল করলেন। পরে অবশ্য শুনেছি, এলাকার এম্পির মাইয়ার লগে তার রুম ডেটের কথা এম্পি সাহেব জেনে গেছে। এখন তারে বাঁশডলা দেয়ার জন্য খুঁজতেসে।

যাই হোক আমি বাসায় থাকি পড়াশোনা করি, আর দুঃখের কবিতা লিখি। হাসিব ভাই সারাদিন ঘুমায় আর রাত হলেই ফোনে ভিডিও কলে লটর-পটর করে। 

দ্বিতীয় যে ব্যক্তি আসল আমার খবর নিতে, সে অফিসের পিয়ন। সম্পাদক পাঠাইসে। আমি বাঁইচা আছি নাকি দেখতে। একমাস ধরে নাকি অফিস যাইনা কোন লেখাও জমা দেই না। অতি স্বত্বর দেখা করতে বলেছেন। তিনি অবশ্য আগ বাড়িয়ে একটা খামে নগদ বিশ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। ঈদ আসতেসে। ঈদ সংখ্যায় আমার একটা উপন্যাস দেবার কথা। সেটা না দিলে তিনি বিপদে পড়ে যাবেন, তাই আগেই কিছু সম্মানী পাঠিয়েছন। ভালোবেসে নয়।

আমার কোন গার্লফ্রেন্ড নাই। এই যুগের মাইয়ারা যেসব বাল-ছালের আলাপ দেয় আমি সেগুলা দিতে পারিনা বলে কারো সাথে বন্ধুত্ব প্রেম পর্যন্ত গড়ায় না। ওরা শুধু দেহ চায়, মন বোঝে না। 

মদখোর হাশেম আসল একদিন। সে মালের বোতল নিয়ে আসছে। সেদিন আমরা তিনজন মিলে একটা ভালো পার্টি করলাম রাতের বেলা।

মাল বেশি খেয়ে হাশেম হাসিব ভাইকে, দুলাভাই বলল একবার, পরে আবার বলল তুই একটা শুয়োরের বাচ্চা,  কচি কচি মেয়েদের ছাড়িস না। আমরা প্রেম করব কাদের সাথে?

হাসিব ভাই অবশ্য রাগ করল না। সে মাল খেলেও অভিজ্ঞ লোক। জানে হাশেমকে কিছু বললে সে তার গোপন হাইড আউটের কথা ফাঁস করে দিতে পারে। 

এতিমের আসলে এই দুনিয়ায় কেউ নাই। জীবনটা বড়ই কষ্টের।

 

- কাপু
- নির্বিবাদী কবি 

 

 

ফেইসবুকো সাইকোসিস

ফেইসবুক নিয়ে আমার একটা অবজার্ভেরশন আছে। সাইক্রিয়াটিস্ট হবার কারনে এগুলোরে আমি সবসময় ADHD বলে চালাই দেই না। নিজে নিজে কিছু নাম দিয়েছি। বাকি চোদু সাইক্রিয়াটিস্ট এগুলো ব্যবহার করতে পারো। 

**স্ট্যাটাসো অবসেসিবা ডিজ অর্ডার: এরা প্রতিদিন ২ থেকে ৩ বার ফেইসবুকে স্ট্যাটাস আপডেট করে। হুদাই বানায়া বানায়া অনেক কিছু লেখে। লাইক পেলে খুশি হয়। 
 
**দুখিত স্ট্যাটাসো ম্যালওয়্যার: এরা খালি বলে আমি খুব একা, আমার কেউ নাই, ফেইসবুকে আজকেই শেষদিন ইত্যাদি ইত্যাদি। এরা বেশিরভাগই পাবলিসিটির জন্য কাঙাল থাকে। এই রোগ মেয়েদের মধ্যে প্রকট।
 
** জেন্ডার ম্যাল্ফাংশনোসিস: এরা পুরুষ হয়েও মেয়েদের আইডি খোলে এবং ধরা খেয়ে পাবলিকের গন শালাতে পরিনত হয়। এদের নিয়ে বেশি কিছু না বলাই ভালো।
 
** ফেবু সেলিব্রিটোসাইটিস: এরা নিজদের ফেইসবুক সেলিব্রিটি বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করে এবং খুবই উত্তম বাংলায় পুরাতন গু বারবার ফেসবুকে নিক্ষেপ করে। এদের ভক্তের সংখ্যা অগুনিত। 
 
** সেলফি জরাসিস: এরা বাথরুমে গিয়েও প্রোফাইলের জন্য নিজের ছবি নিজে তুলবে। আর মেয়ে হলে বলবে আমাকে কেমন লাগছে বন্ধুরা, তদনগদ ২০০ লাইক।

---------------
- ডাঃ দুঃখ
মনের ডাক্তার

কুত্তার বাচ্চা প্রসঙ্গ

রাজিবের সাথে আমার প্রথম দেখা আজিমপুর কবরস্থানের সামনের ফুটপাতে। সে একমনে ফুটপাতের পাশের ড্রেনের দিকে তাঁকিয়ে আছে। তার আশেপাশে কে আসছে যাচ্ছে সেদিকে তার মনোযোগ নাই। আমি একটা মালব্রো ধরিয়েছি। সিগারেট হাতে থাকলে মানুষের সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করে। কিন্তু আশেপাশে কেউ নাই কথা বলার মত। আমি রাজিবের সাথে কথা বলার জন্য এগিয়ে গেলাম। 

- ড্রেনে কি হইসে ভাইজান? 

রাজিব আমার দিকে না তাঁকিয়ে আমুদে গলায় বলল, "কুত্তার বাচ্চা"।

আমি চমকে উঠে পালটা গালি দিতে যাবো, তার আগেই সে ফট করে ড্রেনের উপর বসে পড়ে হাত বাড়িয়ে একটা ছোট কুকুরের বাচ্চাকে টেনে তুলল। 

-ওহ... শিট। সে আসলে কুত্তার বাচ্চাকে টেনে তোলার জন্যই ড্রেনের পাশে এতক্ষন ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। আমার দিকে তাঁকিয়ে সে বিজয়ীর হাসি দিল একটা। আমি এইরকম সুন্দর হাসি খুব কম মানুষেরই দেখেছি।

ঘাড় ধরে সে কুকুরের বাচ্চাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আমি তার পিছু নিলাম। এইরকম ক্যারেক্টার সমাজে দূর্লভ। একটু সামনেই সিটি কর্পোরেশনের একটা কল আছে। সেখানে গিয়ে আচ্ছামত পানি দিয়ে ধুয়ে নিল বাচ্চাটাকে। 

এরপর আবার ফুটপাতে নামিয়ে রেখে দিল বাচ্চাটাকে। কইত্থেকে জানি এখন আরো দুটো কুকুর এসে জুটেছে। এরা সমানে লেজ নাড়ছে।

রাজিব নির্বিকার। স্কিছুই হয়নি এমন ভঙ্গিতে আবার হাঁটা শুরু করল। আমি পিছু নিলাম। মনে হচ্ছে হন্টন পীরের পেছনে হাঁটছি।

- ঘটনা কি? আপনি পিছে পিছে আসেন কেন?  
- এমনেই... কিছু করার নাই। দেখি আপনি কি করেন?
- মানে? আপনে কে?
- আমি মানুষ। খুব খারাপ মানুষ। ভালো মানুষ দেখলে তার পিছে পিছে যাই।
- আমি ভালো মানুষ?
- ভালো খারাপ জানি না, তবে আপাতত এই রাস্তায় আপনি সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং মানুষ।

রাজিব আবার তার সেই ভুবন ভোলানো নিষ্পাপ হাসি দিল। 

- চা খাবেন ভাইজান?

আমি সম্মতি দিলাম। গল্প জমানোর জন্য চা অনেক উত্তম একটা পানীয়। গলা পরিষ্কার করে, কথা ঠিকমত বলা যায়।  

গল্পে গল্পে তার নাম পরিচয় জানলাম। সে পেশায় একজন ইলেক্ট্রিশিয়ান। কোথাও চাকরি করে না তবে নন-পার্মানেন্ট হিসেবে একটা সরকারি অফিসে যুক্ত আছে। মাসে নয় হাজার টাকার মত পায়। বাইরে কাজ করে কিছু টু-পাইস ইনকাম হয়। আর মাঝে মধ্যে সুযোগ পেলে স্টোরের পুরাতন মালামাল বিক্রি করে দেয়। এই দিয়ে জোড়াতালির মত চলছে।

- নিজেই একটা অফিস খুলে বসেন না। নাম দেন "ইলেক্ট্রিক ম্যান" ।

নামটা মনে হয় রাজিবের বিশেষ পছন্দ হয় নাই। সে সুরু চোখে আমার দিকে তাঁকায়।

- ভাইজান কি মশকরা করেন? গরীবের সাথে অবশ্য সবাই মজা নেয়।
- না মজা নিচ্ছি না, সিরিয়াসলি বলতেসি। একটা অফিস নেন, সার্ভিসের চার্ট বানান। আমি মার্কেটিং করে দিব। ক্লায়েন্ট জোগাড় করে দিব। বিজনেসে যা প্রফিট হবে তার ১০% কমিশন আমার।

- আপনে দালালি করবেন?
- দালালি না, মার্কেটিং। যেহেতু খরচ দিতে পারবেন না, তাই কমিশন নিব। দরকারে দোকানে কিছু মালামালও তুলব। নবাবপুরে আমার পরিচিত পাইকার আছে। বাকিতে লাখখানেক টাকার মাল দেবে।

প্রথম পরিচয়ে এত সুবুদ্ধি রাজিব আশা করে নাই। সে ব্যাপক সন্দিহান হয়ে আমার দিকে তাঁকাচ্ছে। আমি তাকে আমার ফোন নাম্বার দিয়ে বিদায় নিলাম।

জানি সে একদিন না একদিন ফোন দিবে। তাকে তার বর্তমান অবস্থা থেকে উন্নত হবার বুদ্ধি দিসি। এইটা চিন্তা-ভাবনা করা মত সময় দরকার তার। 

তাই বইলা আবার ভাইবেন না আমি জনে জনে উপদেশ বিলি করে বেড়াই। রাজিবকে আমার পছন্দ হইসে কারন খুব কম মানুষই ড্রেনের থেকে কুত্তার বাচ্চা তুলে তাকে গোসল করায়! 

 

 

গুপ্ত - The Undercover Gem

স্কুলে থাকতে আমারা রসময় গুপ্তের বই কিনতে নীলক্ষেত যেতাম। নীলক্ষেতে নীলের চাষ না হলেও নিউজপ্রিন্টে ছাপানো গুপ্ত আংকেলের বইয়ের চাষ হত। তখন আজকালকার মতো ইনস্টাগ্রামে নংগ্ন নারীদের শরীর দোলানো দেখা যেত না। আমাদের ইন্টারনেট আর স্মার্টফোন ছিল না। আমরা গুপ্ত আংকেলের সেই ছোট ছোট গল্প পড়ে নিজের মনের মত করে সব কল্পনা করে নিতাম।

সেই হিসেবে বলা যায় আজকের গেঞ্জিদের তুলনায় আমাদের কল্পনাশক্তি অনেক ভালো ছিল। এখনতো পোলাপান পর্ন দেখতে বসলেও বাছাই করতে পারে না যে কোন ক্যাটাগরি দেখবে! আর আমাদের একটাই চ্যানেল ছিল- গুপ্ত আংকেল।

বড় হয়ে যাবার পর নীলক্ষেতে গেলে দেখেছি কেউ আর গুপ্ত আংকেলের বই কেনার জন্য চিপায় ডাকে না। এইজন্যই এই জেনারেশন বই পড়ে না।

দেশের বাইরে চলে আসার পর অনেক কিছু মিস করি, গুপ্ত তাদের একজন। যাকে কখনও দেখিনি, কিন্তু মনে মনে অনেক খুঁজেছি।

ইদানিং অবশ্য গুপ্ত নামটা আবার শুনতে পাচ্ছি খুব। গুপ্ত নাকি এখন হাল ফ্যাশনের হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে ছড়িয়ে গেছে। গুপ্তের স্মর্থিক গোষ্ঠী আর বিরোধী পক্ষ নাকি প্রকাশ্যে মারামারিতে লিপ্ত হয়েছে। গুপ্তের এই প্রচারে আমি সমর্থন জানাচ্ছি। গুপ্ত একজন মহান শিল্পী। তাকে ভুলতে দেয়া যাবে না।

গুপ্ত প্রেমী সবাইকে ভালোবাসা। গুপ্তকে ভালবাসুন।

- আতিক আল জামি
- হাফ বৃটিশ 

 

 

শুটকি

ওমর সানির একটা এড দেখি ফেইসবুকে মাঝেমধ্যে। সে একটা অফিস চেয়ারে বসে বোতল থেকে শুটকি ভর্তা নিয়ে ভাত খাচ্ছে। তার চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে খেতে কষ্ট হলেও সে খাচ্ছে।

যারা এই মোটকারে শুটকি খাওয়াইতে পারসে তাদেরকে ধন্যবাদ। তো এই শুটকি আমি অর্ডার দিলাম এক বয়াম। যদিও আমি শুটকি খাই না। আমার বস বলসে শুটকিতে প্রচুর কিটনাশক দেয়া থাকে। এইডি খাইলে কিডনি ড্যামেজ হবেই হবে। অর্ডার দিয়া আফসোস করলাম, কেন করলাম এই কাম? বসের আদেশ অমান্য করা হইতেসে পাপের মত। 

শুটকি ডেলিভার করল, টেস্ট করলাম। যেমন তেমন যাকে বলে। চাংখারপুলের ভাতের হোটেলে এর থেকে ভাল শুটকি ভর্তা বানায়। 

টাকাটা যেন লস না যায় এইজন্য বয়ামটা মাসুদরে দিয়া দিলাম। বললাম এইটা সৌদির আঁচার। খাইলেই সোয়াব হবে। সে মহাআনন্দে এইটা নিল। ফ্রি যেকোন জনিসের প্রতি মাসুদের লোভ প্রচন্ড। আসলে গরীব মানুষের কোন ক্লাস নাই। এরা শ্রেনিহীন মানুষ, সমাজের নিন্মস্তরের বোঝা।

শুটকির আঁচার খেয়ে মাসুদের পেট খারাপ হয়ে গেল। কুত্তার পেটে আসলে ঘি সহ্য হয় না। তবে আমি বুঝলাম। বস যা বলে ভালোর জন্যই বলে।

মাসুদরে পেট খারাপ উপলক্ষ্যে একদিনের ছুটি দিলাম। সে তার গার্লফ্রেন্ড্রে নিয়া ঘুরতে চলে গেল। বউ থাকার পরেও এই ঢাকা শহরে মাসুদ যে কিভাবে একটা গার্লফ্রেন্ড যোগাড় করসে এইটা ভাইবা আমার মাঝে মধ্যে ঈর্ষা হয়। 

আজকে বাইকে তেল নাই। ভাবসিলাম মাসুদরে লাইনে দাঁড় করায়া দিব। হইল না। ওমরসানি তোমার এডের কারনে কতকিছু যে হারাইলাম। তোমাকে ট্রস ট্রস করে চাবুক মারতে হবে।

 

--- কাপু 

 

স্যান্ডেল

মাসুদরে সাথে নিয়া গেলাম বায়তুল মোকাররম নামাজ পড়তে। বড় জামাতে নামাজ পড়ে আরাম আছে। মাসুদ অবশ্য যেতে রাজি হচ্ছিল না। তারে যেই পাঞ্জাবি কিনে দিসি সেটা পরেই সে রওয়ানা দিসে। এই পাতলা কাপড়ের পাঞ্জাবি পরে তার নিপল দেখা যাচ্ছিল দেখে সে নীচে একটা লাল কালারের গেঞ্জি পরে আসছে। সেন্ডু গেঞ্জি পরলে স্টাইল নষ্ট হবে বলে সেটা তারে পরতে মানা করসি।

তবে রাস্তা-ঘাটের লোকজন একটু কেমন কেমন ভাবে তাকাচ্ছে। এইটারে মসজিদে ঢুকতে দেয় কিনা সেটা নিয়া সন্দেহ হচ্ছে। তবে লোকজন মুচকি মুচকি হাসলেও কেউ তারে কিছু বলল না। মাসুদ বুক ফুলিয়ে সেলিব্রেটি কায়দায় হাঁটছে। একজন আবার টুক করে একটা ছবিও তুলে ফেলল। 

মাসুদের কাছে আমার স্যান্ডেল জম দিয়া বললাম, নামাজ শেষে এইখানে আইসা আবার মিলিত হবা। বিড়ি খাইতে এদিক-ঐদিক যাবা না। আর স্যান্ডেল ঠিকমত নজরে রাখবা। এইখানে মুসুল্লির বেশে প্রচুর চোর আসে।

তারে নামাজ পড়তে উপরে পাঠায়া দিলাম। এই পাঞ্জাবি পরা লোকের সাথে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া যাবে না। প্রচুর ক্যামেরাম্যান দেখা যাচ্ছে। কে কোন দিকে দিয়ে ভিডিও করে ভাইরাল করে দিবে।

নামাজ শেষে আমি একটু আস্তে ধীরে বের হলাম। মাসুদের দেখা নাই। খালি পায়ে হেঁটে একটু দূরে গিয়ে একটা মালব্রো ধরালাম। এই জিনিস টেনে ইদানিং আর আগের মত ফিলিংস হচ্ছে না। মনে হচ্ছে দুই-নম্বর। নজর রাখছি মাসুদ কখন আসে।

একটু পরেই মাসুদ আসল কুত্তার মত হাঁপাতে হাঁপাতে। আমি কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কিরে চোদনা, আমার জুতা কই? শালায় বলে, বস মোনাজাত শেষ করা পর্যন্ত জুতা সামনেই ছিল। মোনাজাত শেষ করতেই কইত্থকে জানি লোকজন আইসা ভিড় কইরা ফেলল আমার সামনে। এরপর দেখি জুতা নাই।

- তোরটা দেখি আছে। আমারটাই নিয়ে গেল?
- বস, আপনারটাতো দামি জুতা সেই কারনেই নিয়ে গেছে! আমি প্রচুর খুঁজলাম কিন্তু পাই নাই।

ইচ্ছা করতেসিল শালার কান বরাবর একটা দেই। কিন্তু ঈদের দিন। মেজাজ খারাপ করা যাবে না। একটা রিকশা নিলাম আর মাসুদের স্যান্ডেল আমি পরে তারে খালি পায়ে থাকতে বললাম।

বাসায় গিয়ে তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিব। দোয়া রাখবেন।

 

- কাপু 

মাসুদের পাঞ্জাবি

মাসুদরে টাকা দিয়ে বললাম, ঠিক এইরকম দেখতে একটা পাঞ্জাবি কিনবি আর সেটা পরে আমাকে ঈদের দিন সকালে সালাম করতে আসবি। তবে কালার নীলের বদলে লাল হইলেও সমস্যা নাই।

বেক্কলে জিগায় সাথে সেন্ডূ গেঞ্জি কিনবে নাকি। আমি মানা করে দিসি। সেন্ডু গেঞ্জি পরলে জামদানির ভ্যালু কমে যাবে।

- কাপু